কবি আরিফুল ইসলাম এর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রি-অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন
মেহেদী ইকবাল এর কবিতাগুচ্ছ
$post->title

করতালি


করতালি দিতে দিতে কখনও কি ক্লান্ত হবে না আমাদের হাত?
হাতের আঙুলগুলো কখনও কি উঠবে না রেগে?
জানি একদিন ফেঁপে উঠবে পুকুরের জল, অন্ধকার অচেনা পথে
থাকবে ছড়িয়ে শুধু পানাঝোঁপ, ঘন শ্যাওলার পাশে কয়েকটি মৃত মাছ
উপচে পড়া দ্রাক্ষারসে দিনভর কাটবে সাঁতার শুধু মর্গের কিছু মাছি!

কেউ একজন বলছে দেখি অদ্ভুত সেই পাহাড়ের কথা
যে পাহাড় উঠছে বেড়ে কেড়ে নেওয়া সম্পদে আমাদের
যে পাহাড়ের পাদদেশে আলো ঝলমলে শহর, যে শহরে
সারারাত খোলা থাকে ক্যাসিনো আর বার, রাস্তার মোড়ে মোড়ে
থাকে দাঁড়িয়ে যত সুন্দরী তরুণীরা সব!

আমরা দেখছি একটি পাহাড়ের আশ্চর্য বেড়ে উঠা
আর বিস্ময়ে দেখছি সবাই কী দুর্দান্ত কেড়ে নেওয়া!
ওরা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে নিচ্ছে কেড়ে সব
এমনকী শিশুর খাবার, রাতের শুকণো রুটি!
আমাদের চারপাশে অভিজাত বাহিনী সকল
ওদের এই অবাক কেড়ে নেওয়া দেখে আমরা আদিষ্ট হয়ে দিচ্ছি করতালি!

করতালি দিতে দিতে ভাবি, কখনও কি ক্লান্ত হবে না আমাদের হাত?
হাতের আঙুলগুলো কখনও কি উঠবে না রেগে?

বৃষ্টি এবং ভ্যানচালক


বৃষ্টি এসে কোথায় যে নিয়ে গেল আশ্বিনের এই সন্ধ্যা!
অনেকটা আগেভাগে এসে গেছে রাত, চাহিদামাফিক ফুটছে পানি কেটলীতে
টং ঘরে বেড়ালের চোখ, ক্যাসিনো পেঁয়াজ থেকে রোহিঙ্গা
কত বিষয় আসে রোজ বৃষ্টির মতো আবার থেমে যায়!
এখন চায়ের কাপগুলো খালি হয় অনেকটা নীরবে
কি লাভ ঝুঁকিপূর্ণ ডিসেকশনে? কপালে চিন্তার ভাঁজ
বাইরে তুমুল বৃষ্টি আশ্বিনের!

এক ভ্যানচালককে দেখি নীচু মাথা
কোথায় যে যাচ্ছে ছুটে

অন্ধকারে!

খেয়া


মহাকালের খেয়ায় চেপে আমরা পাড়ি দিচ্ছি পথ
মহাশূন্যে ভাসছি আমরা। চারপাশে গ্রামের মতো
সরে যায় নক্ষত্রপুঞ্জ। দূরে তালগাছ দেখার মতো
আমরা সূর্য দেখি, চন্দ্র দেখি। কখনো
আমাদের সমান্তরালে দেখি ছুটে যায় এ্যাপোলোর রথ।

কখনো জিউসকে দেখি হাত নেড়ে জানায় সম্ভাষণ
আমাদের যাত্রাপথে হলুদ ফড়িং এর মেলা, প্রজাপতি
মাছেদের অপূর্ব সাঁতার! সবুজ মাচান ঘিরে
স্বপ্ন আর সম্ভাবনা, পরিযায়ী পাখিদের ডানা।

আমাদের যাত্রাপথে কখনো কুন্ডলীকৃত ধোঁয়া দেখি
দেখি ব্যারেল বোমার আস্ফালন! হিরোশিমা -নাগাসাকি
কত না মৃত্যু কূপ! সারি সারি সাজানো চিতা
তবু ছাইভস্ম থেকে দেখি ফিনিক্স পাখিদের আশ্চর্য উড্ডয়ন!

এই ঘাটে নামবে কেউ, শিশুরা চুপ থাকো, করবে না কলরব
অনন্তের যাত্রী সবাই, নামছে যে, তার জন্যে করো দোয়া
আগে পরে নামবো সবাই, শূন্যতায় ভাসবে খেয়া

একদিন এই ঘাটে থাকবে না কেউ!

থাকবে কিছু


কোথাও চাঁদের বাড়ি, ক্লান্তিহীন চলে কারাভান
কোথাও ব্যারেল বোমা, সৈকতে পড়ে থাকা শিশু আইলান।
কোথাও রেণু রেণু, উড়ে আসে রবীন্দ্রনাথের গান
কোথাও রক্ত নদী, সাঁতরায় হলি আর্টিজান।

কোথাও একটি পাতা, দুঃসহ অপেক্ষা শীতের
কোথাও একটু হাসি, শত উল্লাস বিপরীতের।

একটুখানি পথ, তার জন্য কত বিচিত্র আয়োজন!
এক দুই শতাব্দী পার! থাকবে কিছু, এই মায়া, ক্ষণ?

বৃষ্টির দিন শেষ


বৃষ্টির দিন শেষ, এখন শুধু মেঘেদের দিন
সাদা সাদা তুলোর মতো মেঘেরা
কিশোরী মেয়েদের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে আকাশের এপাড়া ওপাড়া
খিল্ খিল্ হাসিতে ঢলে পড়ছে ওরা এ ওর গায়ে
রোদের ছোঁয়া পেয়ে ওদের ওড়নাগুলো উঠছে ঝলমলিয়ে।

নীচে কাশবন, পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী
দু 'একটা শ্যালো নৌকা পাট নিয়ে ছুটে যাচ্ছে গঞ্জের দিকে।
শিশুরা নাইতে নেমেছে, ওদের উচ্ছ্বাস দেখে
ফেলে আসা শৈশবের কথা মনে করে কেমন জানি করে উঠছে মন!

কাশবনে উড়ে বেড়াচ্ছে দুষ্টু ফড়িঙের দল
সাদা সাদা ফুলগুলো উড়ে উড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে
নাম না জানা রঙিন পাখিরা এসে খেলছে লুকোচুরি খেলা।

বৃষ্টির দিন শেষ, এখন শুধু মুঠো মুঠো সাদা আনন্দ ছুঁড়ে মারার দিন
এখন শুধু কাশবন, সাদা মেঘ, রঙিন পাখি হয়ে উড়ে বেড়াবার দিন।।

আগুন 

আগুনও নীরিহ হতে পারে, ক্যাম্প ফায়ারের আগুনে কত না আনন্দ থাকে!
কত নৃত্য, আবৃত্তি আর গান
'আলু ভর্তা, মুসুরের ডাইল নিজের হাতে রাইন্ধ্যা খাই '।
স্কাউট ছিলাম বলে এখন রান্না করে খেতে
খুব একটা খারাপ লাগে না! তবে টিভিতে
রোহিঙ্গা শিশুদের দেখে খুব কষ্ট হয়! ওদের
ক্ষুধার্ত মুখে যদি কিছু অন্ন তুলে দিতে পারতাম!
দেখি লাসভেগাসে হামলা হয়েছে কনসার্টে! খুনীর নাম নাকি পিটার!
পিটার কি পূর্বজন্মে মুসলমান ছিলো? যেখানে সন্ত্রাস
সেখানেই নাকি মুসলমান! অথচ পৃথিবীর
নিকৃষ্ট খুনীদের তালিকায় এখন অং সান সূচি
বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কথা আমরা কি ভুলে গেছি?
আর গুজরাটের খুনী নরেন্দ্র মোদির কথা?
জর্জ বুশ কী সুন্দর ইরাককে 'গণতান্ত্রিক 'বানিয়ে দিলো!
আর লিবিয়া, আফগানিস্তান! সিরিয়ার ভবিষ্যৎ কি, কে জানে?

বলছিলাম আগুনের কথা! আগুন কি আসলেই নীরিহ?
সে কি আর নীরিহ থাকে হারিয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ?
অন্যের ঘরে যারা আগুন দেয়
তাদের ঘর কি আর থাকে অক্ষত লেলিহান শিখা থেকে আগুনের?

বায়োস্কোপ


'কী চমৎকার দেখা গেল
রুপবান বিবি আইসা পড়লো '।

কোথায় রুপবান বিবি? কোথায় বায়োস্কোপ?
নেটে নেটে অন্য কিছু
দেখা তো যাচ্ছেই চমৎকার!

কে শিকারী? কেই বা শিকার?

হায় রুপবান বিবি!
হায় বায়োস্কোপ!
বিকার গ্রস্তের মতো অচেনা জলাশয়ে

আমরা দিচ্ছি ডুব!


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান