কবি কাজী আতীক এর জন্মদিন আজ
$post->title

কবি কাজী আতীক।

জন্ম: ১৬ মার্চ’ ১৯৫৭, রাজখলা, পাচগাও, মৌলভীবাজার, বাংলাদেশ

 

ছাত্র রাজনীতি, খেলাধুলা, সাহিত্য ওসাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত শত্তুর দশকের এক তরুণ কাজী আতীক ১৯৮২তে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদে যোগ দেন আর্থসামাজিক উন্নয়ন গবেষণা মাঠ কর্মকর্তা হিসাবে। ১৯৮৩-তে দাতা সংস্থা SIDA'র অর্থায়নে LGED'র বাস্তবায়নকৃত IRWP এর পরিকল্পনা উইঙে মাঠ গবেষক এবং পরে RESPএর ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইউনিট-এ একজন সহযোগী বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন মধ্য ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত।

এ বছরই অভিবাসিত হন ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে। সাড়ে তিন বছর পর আবারও দেশে ফিরে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদে যোগ দেন আর্থসামাজিক উন্নয়ন গবেষণা মাঠ সমন্নয়ক হিসাবে। এই সময়ে নিজ গ্রামের বাড়ীতে নিজেদের ভিটায় কবির বড় ভাই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদের দ্বারা পারিবারিক উদ্যোগে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত মহিলা কলেজের পাশাপাশি শিশু শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তরের একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। দুটি প্রতিষ্ঠানই যথেষ্ট সুনামের সাথে এখন কাজ করে যাছে।...

কবির লেখা-লেখির শুরু স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে অনেকটা তাঁর আরেক অগ্রজ সুসাহিত্যক কাজী ফয়সলুজ্জামান আহমদ দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে দশম শ্রেণিতে পড়া কালীন ১৯৭২ সালে এই সময় তিনি লেখা-লেখি ছাড়ও খেলাধুলাসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও সার্বক্ষণিক জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে প্রকাশিত সাময়িকী ও বিশেষ প্রকাশনার সম্পাদনা কাজেও নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। যদিও রাজনীতি সম্পৃক্ততা কবির ১৯৬৮ সাল থেকেই তবে, ১৯৭৫ সালে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নেতৃত্বশুন্যতা দেখা দিলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন একনিষ্ঠ প্রেমী হিসেবে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের হাল ধরতে ছাত্ররাজনীতির সাথে ওতপ্রোত জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থা চলতে থাকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত, তারপর আবার ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসেতে থাকেন। ১৯৭৮ সালে কবির সবচে বড়ো ক্ষতিটি হয়। এযাবৎ কালের প্রায় সব লেখাই তিনিহারিয়ে ফেলেন ওগুলো স্থানান্তরে নেবার সময়। এরপর আর কখনো নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তিনি লেখালেখিতে ছিলেন না। বার বার সরে গেছেন আবার ফিরে এসেছেন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৮ এই সময় বলতে গেলে কিছুই লেখাহয়নিতাঁর। ১৯৯৯ থকে ২০০০ এই সময়ে বেশ কিছু লিখলেও তারপর এবং ২০০২ সালে আবারও লন্ডন ফিরে যাবার পর কিংবা ২০০৫আমেরিকা প্রবাসী হবার পর ২০১২ সাল পর্যন্ত কবি লেখা-লেখির জগত থেকে বলতে গেলে প্রায় নির্বাসনেই ছিলেন। এখন আবার নিয়মিত লিখছেন।২০০৫ সাল থেকে তিনিস্বপরিবারে স্থায়িভাবে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে অভিবাসন গ্রহণ করে একজন ইনকাম ট্যাক্স ও ইমিগ্রেসশন কনসালটেন্ট হিসাবে কর্মরত। কবির একমাত্র মেয়ে তাসনীম আহমদ কাজী ইতিমধ্যেই CUNY থেকে গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স করে জাতিসংঘ সদর দফতরে কর্মরত আর, জামাই মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান, বায়োমেডিকেল ইঙ্গিনিয়ার এবং একমাত্র ছেলে তাহমীদ আহমদ কাজী একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার পর সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। সহধর্মিণী রাহাত কাজী (শিউলী) কবির এবারে লেখালেখিতে ফিরে আসার সিংহভাগ কৃতিত্বের দাবিদার। কবিরা চার ভাই এক বোন। কবির ১৮ মাস বয়স্ক এখোন পর্যন্ত একমাত্র নাতি ইহসান হাসান তাঁকে নতুন করে বাঁচার শক্তি যোগাচ্ছে।

বড়োভাই এবং সেঝো ভাইয়ের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, মেঝো ভাই কাজী ফারুকুজ্জামান আহমদ ঢাকায় অবসর জীবনে এবং একমাত্র বোন কাজী জাহেদা ইউসুফ সপরিবারে লন্ডন প্রবাসী। কবি সবার ছোট। পিতা মওলানা কাজী মোহাম্মাদ মুফজ্জল হোসেন একজন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, যিনি ৫টি ভাষায় সমান পারদর্শী, অবিভক্ত ভারতের শেষ আসাম আইনসভার নির্বাচিত সদস্য এবং পরে বর্তমান মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের একজন প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যাপক ছিলেন। মা বেগম সহিফা খাতুন আমৃত্যু মওলানা কাজী মোহাম্মাদ মুফজ্জল হোসেন ট্রাস্টের আমৃত্যু চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবা ১৯৭৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর এবং মা ২০০১ সালের ১৮ অক্টোবর, চিরনিদ্রায় শায়িত হন এবং তাদের দুজনকেই বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। কবির অগ্রজ কবি কাজি ফয়সল আহমদ দুরারোগ্য ক্যান্সারে (২০১০) আমেরিকায় ইন্তেকাল করলে তাঁকে নিউ ইয়র্কের ওয়াশিংটন মেমোরিয়ালে সমাহিত করা হয়।

কবির প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ১৯৮১-তে প্রকাশিত “আজন্ম উদ্ভ্রান্ত জনান্তিকে”, মুদ্রণ প্রমাদ আধিক্যের কারণে যাবহুল প্রচারিত নয়।ব্যক্তিগত অনিহার কারনে এতোদিন নিজের বই প্রকাশ থেকে দূরে থাকলেও পরিবার এবং বন্ধুদের উৎসাহে অবশেষে প্রায় চার দশক পর এবার মুজিবর্ষে একই সাথে কবির দুটি কবিতার বইপ্রকাশিত হলো “প্রেম অপ্রেমের বাসগৃহে” এবং “আলো রনেকাবে”।

কবি কাজী আতীকের জন্মদিন উপলক্ষে সাহিত্যবাতার্ পরিবারের পক্ষ থেকে একরাশ ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান