মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই লিখে মার্কিন লেখকের কানাডিয়ান পুরস্কার!
$post->title


আমাদের ১৯৭১ নিয়ে লেখা ‘ব্লাড টেলিগ্রামঃ নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড এ ফরগটেন জেনোসাইড’ গ্রন্থটি ২০১৪ সালের জন্য কানাডিয়ান পুরষ্কার 'লাওনেল গেলবার প্রাইজ' অর্জন করলেন অমেরিকান অধ্যাপক গ্যারি ব্যাস। কানাডা বইটিকে যে সন্মান দিয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য গর্বের। এই বইটিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, মানবতা এবং নিক্সন, কিসিঞ্জারের ভূমিকা তুলে ধরেন। সাধারণ বিবেচনায় ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড’ অসাধারণ বইটি একজন বিদেশি গবেষকের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ। বইটি এপর্যন্ত সাত-সাতটি পুরস্কার অর্জন করেছে।
তবে এ পুরস্কারটি কানাডার প্রয়াত কূটনীতিক লাওনেল গেলবার (১৯০৭-১৯৮৯) স্মরণে ১৯৮৯ সালে প্রবর্তিত। পুরস্কারজয়ীর জন্য রয়েছে ১৫ হাজার ডলার। প্রতি বছর তা ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন ও টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঙ্ক স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সহযোগিতায় লাওনেল জেলবার ফাউন্ডেশন থেকে দেয়া হয়। নিউজার্সির প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও পররাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক গ্যারি ব্যাস পুরস্কারটি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্বল কনফারেন্স হল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। পুরস্কারের জুরিবোর্ডে ছিলেন- জুরি চেয়ারম্যান উইলিয়াম থরসেল (কানাডা), সদস্য ২০১৩ সালের লাওনেল জেলবার পুরস্কারজয়ী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড (টরন্টো, কানাডা), টিমোথি গার্টন অ্যাশ (অক্সফোর্ড, ইংল্যান্ড), ডেনিয়াল ডব্লিউ ড্রেজনার (ম্যাসাচুসেটস, ইউএসএ)এবং ম্যাটিয়াস স্পেকটর (ব্রাজিল)।
সারা বিশ্ব থেকে ৭৫ জন প্রকাশক থেকে প্রাপ্ত ১৭৫টি নির্বাচিত বই অতিক্রম করে ‘ব্লাড টেলিগ্রামঃ নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড এ ফরগটেন জেনোসাইড’ এই পুরস্কার অর্জন করে।
একাত্তরে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্থার কেন্ট ব্লাড কর্তৃক ওয়াশিংটনে প্রেরিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’গুলো স্নায়ু যুদ্ধকালীন হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কর্মপ্রণালীকে তুলে ধরে। বইটিতে লেখক দেখিয়েছেন- কীভাবে পাকিস্তানের সামরিকজান্তা ইয়াহিয়া খান ঐতিহাসিকভাবে অনুষ্ঠিত একটি মুক্ত নির্বাচনের ফলাফলকে ভূলুণ্ঠিত করেছেন। তাতে লাখো মানুষকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়। এক কোটি মানুষের প্রতিবেশী ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে ছিল এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। নিক্সন ও কিসিঞ্জার সেই ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সামরিকজান্তাকেই সমর্থন জোগান। কেবল স্নায়ুযুদ্ধের রাজনৈতিক হিসাব মেলাতে ভারত ও তার নেত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে ব্যক্তিগত অপছন্দ থেকে নিক্সন ও কিসিঞ্জার পাকিস্তান সরকারকে সমর্থনসহ একটি ভয়াবহ যুদ্ধের পাণে ভারতকে ঠেলে দেন। এছাড়াও নিজের দেশের প্রতিবাদী এই কূটনীতিককে নিস্তব্ধ করার পাশাপাশি গোপনে চীনের সৈন্য বাহিনী ভারত সীমান্তে মোতায়েনে উৎসাহ প্রদান এবং অবৈধভাবে পাকিস্তানকে অস্ত্র দেন।
লেখক গ্যারি ব্যাস তার বইয়ে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক হোয়াইট হাউসের টেপ শুনে, ডি-ক্লাসিফাইড নথি-পত্র দেখে, হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এবং ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই নাটকীয় ও আলো-আঁধারি চিত্রটি পুরোপুরি চিত্রায়ণ করেছেন। (দ্রঃ বাংলাদেশ বিষয়ক ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ পেয়েছে ২০১৪ সালের গেলবার প্রাইজ/ মোহাম্মদ আলী বোখারী, আমাদের অর্থনীতি, জুন ০২, ২০১৪, ঢাকা।)

গেরির আলোচ্য আলোচিত বইটি একাধিক পুরস্কার পেয়েছে। অনেক সমালোচনা বের হয়েছে। তার একটি রিভিউ তুলে ধরছি, যার মাধ্যমে ইতিহাস এবং ‘ইতিহাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’র চিত্র পাওয়া যাবেঃ
‘The story begins, as do so many in our modern world, with the end of the British Empire. In 1947, when the British quit India, they lopped off its majority Muslim flanks in the east and west. At the time, the partition unfolded in a frenzy of murder and expulsion, leaving a million people dead. Pakistan emerged as one of the largest countries in the world, but improbably divided into two parts by more than a thousand miles of Indian territory. When you look at a map from that time, you have to wonder what on earth the cartographers were thinking.
Pakistan carried on for 23 years like that, with the more numerous Bengalis in the east feeling increasingly neglected by their Punjabi brethren in the west, where the capital was. Things came to a head in December 1970, when Sheik Mujib-ur-¬Rahman, a pipe-smoking Bengali leader, and his party, the Awami League, won the elections on the promise of autonomy for East Pakistan. (Whatever he wanted privately, he did not call for independence.) Rahman never got a chance to form a government. Gen. Agha Muhammad Yahya Khan, egged on by Zulfiqar Ali Bhutto, the second-place finisher, arrested Rahman and ordered the army to crush the Bengalis. Dominated by Punjabis, the army moved brutally, shooting and detaining Bengali leaders, intellectuals and anyone who opposed them….
….. In practice, this meant that Yahya — a vain, shallow mediocrity — was suddenly considered indispensable, free to do whatever he wished in East Pakistan. With the White House averting its eyes, the largely Muslim Pakistani Army killed at least 300,000 Bengalis, most of them Hindus, and forced 10 million to flee to India. Bass lays out his indictment of the White House: Nixon and Kissinger spurned the cables, written by their own diplomats in Dacca (the capital of East Pakistan), that said West Pakistan was guilty of carrying out widespread massacres. Archer Blood, the counsel general in Dacca, sent an angry cable that detailed the atrocities and used the word “genocide.” The men in the White House,
[ N.B: The New York Times, By Dexter Filkins/ Sept. 27, 2013. NY. UAS]

গ্যারি জে ব্যাস এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি কেবল আমার দায়িত্ব পালন করেছি। তার বেশি কিছু নয়। বইটিতে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যাকে 'ভুলে যাওয়া গণহত্যা' উপস্থাপন করেছেন।

------
দিঃ দ্রঃ গেরি বাংলাদেশকে অনেক আপন মনে করেন। তাঁর টুইটের কভারে তাঁর বই এবং বাংলাদেশের পতাকা সম্বলিত ছবি সজ্জিত করে রেখেছেন!

সূত্র: Saifullah Mahmud Dulal


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান