পরচর্চা - সাইফউদ্দিন আহমেদ (বাবর)
$post->title

ঈদের বিশেষ গল্প


- লোকটার টাকা আছে,তাই অনেকে রেসপেক্ট করে।
- নারে ভাই শুধু টাকার জন্য না।লোকটার বুদ্ধিও আছে।
- বুদ্ধির জন্য আজকাল কেউ কাউকে রেসপেক্ট করেনা।আগের জামানায় করতো।
- তা তোমার এতো আক্রোশ কেনো তার উপর? হিংসা হচ্ছে বুঝি!
- কি,কি বললে? আমার হিংসা হচ্ছে? আমি হিংসাখোর?
- না তা বলিনিতো! তুমি এতো রেগে যাচ্ছো কেনো?
- তুমি মানুষের টাকা খেয়ে আমাকে যা তা বলবে আর আমি মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে বসে থাকবো?


- ও খালা।
- বলো বাবা।
- তোমার মেয়ে জামাই না কি এম পি নির্বাচনে দাঁড়াবেন?
- তুমি শোনলে কার কাছে ?
- হে হে হে,খালা মেয়ে জামাই তোমার পয়সা ওয়ালা,তার উপর বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিতো মুখ।এমন মানুষের কিছু কি গোপন থাকে?
- তাহলে আমাকে জীজ্ঞাসা করছো কেনো?
- না মানে,তারপরও খালা নিজের মানুষের মুখ থেকে শোনতে ভালো লাগে।তা খালা এলাকার মানুষ তাকে ভোট দেবেতো?
- কি জানিরে বাবা,আমি এসব বুঝিনা।তবে শোনেছি টাকা থাকলে দেশে ভোট কিনে পাশ করা যায়।
- এ কথা সত্য শোনেছেন খালা।টাকা থাকলে দেশে ইলেকশানে পাশ করা কোন ব্যাপারইনা।কতো অজাত,কুজাত এম পি ,মিনিস্টার হয়ে যায়!
- কি বলছো এসব বাবা?আমার মেয়ে জামাই তো ভালো বংশের ছেলে।
- আমি বলছিনা খালা,আপনার মেয়ে জামাইয়ের এলাকার লোকজন এসব বলে।তারা নিশ্চয় না জেনে বলেনা।
- চুপ।এলাকার মানুষ হিংসা করে এসব বলে।মানুষের ধন সম্পদ হলে,বন্ধুর চেয়ে শত্রুর সংখ্যা বেশি হয়।শত্রুরাই নানান কথা বলে।এসব লোকদের মুখে আমি ঝাটা মারি।
- আমার মুখেও মারবেন না কি খালা?
- আজে বাজে কথা বললে মারতেও পারি।
- তাহলে যাই খালা,আপনার কথা আরো দশজনরে গিয়ে বলি।
- কি,কি!


- হ্যালো,শাহানা,সরি তোমার কল মিস করেছি।একটা জরুরী মিটিংয়ে ছিলাম।ফোন সাইলেন্টে ছিলো।
- তাতো থাকবেই।তুমি তো এখন এম,পি মানুষ।
- আরে কি বলো?এখনো এম,পি হইনি তো।
- ঐ একই কথা।ইলেকশানে দাঁড়ালেই এম,পি নাম পড়ে যায়।
- রসিকতা তুমিও শুরু করলে শাহানা?
- দেখো আরো কতো কি করি।
- মানে?তুমি এরকম করে কথা বলছো কেনো?
- তোমার সাথে যেরকম করে কথা বলা দরকার সে রকমই কথা বলছি।
- বুঝলাম না।
- তুমি ঠিকই সব বুঝতে পার।শুধু আমি বুঝতে পারিনা।পারলে তোমার সাথে পরকীয়ায় জড়াতাম না।
- কী বলছো শাহানা?আমরা একজন আরেকজনকে ভালোবাসি।তাইনা?
- হা হা হা,কি সুন্দর করে ভালোবাসি বললে।তা কতোজনকে তুমি এরকম ভালোবাসার কথা বলো?এতোদিন জানতাম তোমার স্ত্রী আর আমাকে তুমি ভালো বাসো।আজ জানলাম দেশে আরেকটা স্ত্রীও তোমার আছে।তাকেও নিশ্চয় ‘ভালোবাসি’ বলো তাইনা?
- কে,কে তোমাকে বলছে?
- তুমি ব্যাবসায়ী মানুষ,অনেক টাকার মালিক,এখন এম,পি মানুষ।তোমার কথা কি একজন দুইজন জানবে?
- বুঝতে পারছি,আমার কোন শত্রু তোমার কাছে এসব লাগিয়েছে।আমি আসছি,সামনা সামনি বসে আলোচনা করবো।
- খবরদার।আসবেনা বলছি।আমার স্বামী ঘরে আছে।
- ঠিক আছে,ও বাইরে গেলে কল দিও।
- কল?তোমাকে?আরো?এটাই শেষ।বেঈমানের বেঈমান,এই রাখলাম।
- না না,লাইন কেটোনা।শোন শাহানা,শোন,হ্যালো,হ্যালো---


- এইযে ভাই তোমাকেই খুঁজছিলাম।
- আমাকে! কেনো?
- ঐদিনতো আমাকে হিংসাখোর সহ আরো কতোকিছু বলে গেলে।শোনেছো তোমার টাকা ওয়ালার কান্ড?
- নাতো,শোনিনি!কি কান্ড?
- তা শোনবে কেনো?ঐ লোক তোমার পছন্দের লোকনা?পছন্দের লোকের কুকির্তী কেউ কি দেখে?শোনে? ঐ লোকটার শাশুড়ি সম্পর্কে আমার খালা।সেদিন হঠাৎ দেখা হওয়ায় বললাম কিছু কথা।লোকটার বংশ বৃত্তি নিয়ে।বাবারে বাবা,শোনে খালা কী চটা ই না চটলেন!মারতে চাইলেন।
- কি বলো!
- যা হয়েছিলো,তাই বলছিরে ভাই।সত্যিই তিনি আমাকে মারতে চেয়েছিলেন।তা এখন উচিত শিক্ষা হয়েছে।একেবারে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে।
- থলের বিড়াল মানে?
-তুমিতো মানে মানেই করবে।তোমার প্রিয় মানুষকে নিয়ে কথা হচ্ছে না!
- আরে ভাই হেয়ালি রেখে খুলে বলো কি হয়েছে।
- তোমাদের ঐ টাকা ওয়ালা লোকটার সব কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস হয়ে গেছে।তার যে দেশে আরেকটা বউ আছে সেটা সবাই জেনে গেছে।
- আরেকটা বউ মানে!
- বউ মানে স্ত্রী।এটাও বুঝোনা?
- না,না বুঝার কথা বলছিনা।তবে ব্যাপারটা হজমে সামান্য সময় লাগলো এই আর কি।
- হজম হয়েছে তো।
- আলহামদুলিল্লাহ।তবে এ নিয়ে এতো কথা বলারও কোন দরকার নাই।তিনি তো মন্দ কিছু করেননি।দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন।আমাদের ধর্মে বিধান আছে সামর্থ্য থাকলে চার চারজন স্ত্রী রাখা যায়।
- রাখো মিয়া বিধান।বিধান কি আমি কম জানি?দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে করতে হয়।কতো টাকা খেয়েছো ঐ লোকটার কাছ থেকে?
- টাকা খেয়েছি মানে?
- টাকা খেয়েছো বলেইতো সব কিছুতে লোকটার সাফাই গাও।জানো লোকটা কতো বড়ো বদমাশ?
- আর কি করেছেন?
- এদেশে অনেকের সঙ্গে পরকীয়া করেছেন।করছেন।সব বের হয়ে এসেছে।
- অল্প বয়সে সফল হলে,টাকা পয়সার মালিক হলে,এরকম হয়ই।তার উপর তিনি এতো হ্যান্ডসাম একজন মানুষ,মেয়েরা তাঁকে পছন্দতো করবেই।
- তুমি এতো বড়ো চামচা!এরকম আর কতোজন আছো তোমরা?
- চামচা আবার কি?বাজে কথা বলোনা।যা সত্যি তাই বললাম।জানোতো এক হাতে তালি বাজেনা।
- হা হা হা,এবার বুঝবে তোমাদের ঐ লোক,কয় হাতে তালি বাজে।এদেশের বউটা তাকে পিছনে লাথ্বি মেরে,দিয়েছে ঘর থেকে তাড়িয়ে।কেইসও করেছে।ছেলে মেয়েওতো আছে কয়েকজন।কোর্ট রায় দেবে বউয়ের পক্ষে।সবকিছুর মালিক হবে বউ।তোমার ঐ লোকটার কিসসু থাকবেনা।
- থাকবেনা বললেই হলো?
- তোমরাতো শুধু চামচামিটাই জানো।এদেশের আইন কিছুতো জানোনা।আর কি বলছিলে হাত তালির কথা?একহাতে তালি বাজেনা? আরে শোনো,একহাতে তালি বাজেনা সত্য কথা।তবে নিজের এক হাত আর অন্যের এক হাতেও তালি বাজেনা।তালি বাজাতে নিজের দু হাতই লাগে।বুঝেছো?
- হা হা হা।বুঝেছি।তোমার আর কোন কথা আমার ভালো না লাগলেও এই কথাটা ভালো লেগেছে।সারাজীবনে তুমি বোধহয় এই একটি কথাই ভালো বলেছো’তালি বাজাতে নিজের দু’হাতই লাগে’।
সত্যি তো!


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান