কবি ও পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুলের জন্মদিন আজ
$post->title

বাংলাদেশের প্রথম প্রশিক্ষিত পর্বতারোহী,কবি, ভাষ্কর শিল্পী, ব্যায়াম বীর, শিল্পী।

ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলা সদরে ০২ জুলাই ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত ডা. জিতেন্দ্র নাথ ঘোষ এবং মাতা প্রয়াত কণিকা দেবী। পেশায় হোমিও চিকিৎসক। তিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক, চিত্র শিল্পী, সংগঠক, চিকিৎসক খেলোয়াড় এবং, পর্বতারোহী।

জনাব ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল বাংলাদেশের প্রথম প্রশিক্ষিত পর্বতারোহী এবং প্রথম বাঙালী হিসেবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গিরিরত্ম নেপাল হিমালয়ের থোরাংলা (১৮,০০০ ফুট) একাকী অতিক্রমের রেকর্ড স্থাপন করেছেন ২০০৯ সালে, হিমাচল হিমালয়ের রুবালকাং পর্বত শৃঙ্গ (২০,৩০০ ফুট)-১৯৭৮সালে এবং বান্দরপুঞ্ছ পর্বত শৃঙ্গ/ব্ল্যাক পিক (২০,৯৫৬ফুট) আরোহণ করেন ১৯৮০ সালে।

ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল ২০০৬ সালে মিলাম হিমবাহে, ২০১১খ্রি. নেপাল হিমালয়ের কালাপাথর পর্বত শৃঙ্গ এবং এভারেস্ট বেসক্যাম্প পরিভ্রমণ করেন। ২০১২খ্রি. নেপাল হিমালয়ে ডাবল এভারেস্ট সামিটার এমএ মুহিতের নেতৃত্বে সফল আইল্যান্ড পিক (২০,৩০৬ফুট) পর্বত অভিযানে অংশ গ্রহন এবং প্রায় ১৯,৮০০ ফুট পর্যন্ত আরোহণ করেন।

ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল জামালপুর জেলার কিংবদন্তী ক্রিকেটার সম্মানে ভূষিত হন-২০০০ সালে, তিনি জামালপুর জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক, এমসিসি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সামাজিক-সাংস্কৃৃতিক ব্যক্তিত্ব।

ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল মেলান্দহ উপজেলার উত্তরণ সামাজিক সাংস্কৃৃতিক সংগঠনের সভাপতি, ছন্দেঝিনাই সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বপালন করেছেন। ২০০৫ সালে গ্রামীন সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় অনন্য অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা পদকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃৃতিক ফোরাম কর্তৃক ভূষিত হন। ২০১২ সালে জামালপুর জেলার প্রত্যয় জুবলী অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননার পুরস্কার গ্রহণ করেন। তার ইচ্ছা ২০১৫-১৬ তে মাউন্ট এভারেস্ট শৃঙ্গ আরোহনের মিশন।

তার লেখা প্রকাশিত কয়েকটি কাব্য বইঃ

১. আমি সূর্যকে ভালবাসি,

২. প্রেম-ঝিনাই,

৩. বৃত্তকলা,

৪. নিরুদ্দেশ যাত্রা,

৫. শ্যামলী মায়ের সুবর্ণ সন্তান,

৬. মেঘে বৈদিক মহাকাব্যের ছবি,

৭. ধ্রুবর কবিতায় ধ্রুব

৮. এভারেস্ট বেসক্যাম্প ও কালাপাথর পর্বতচূড়া অভিযান

এ ছাড়াও পর্বত অভিযানের উপর বেশ কয়েকটি বই রয়েছে।

আশির দশক ফলুপলঃ ক্রিকেট খেলোয়ার ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুলের একান্ত উদ্যোগ থেকে প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্বনাব বজলুর রহমান ভূঁইয়ারর পৃষ্টপোষকতায় মেলান্দহ সেন্ট্রাল ক্রিকেট ক্লাব (এম.সি.সি ক্লাব)প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩খ্রিঃ প্রথম বিভাগে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় ক্রিকেট খেলা শুরু করে।

এশবিংশ শতকে এম.সি.সি.থেকে কিছু খেলোয়ার মিলেনিয়াম ক্রিকেট ক্লাব গঠন করে ডিউস ক্রিকেটে অংশ নেয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধিনে দ্বিতীয় বিভাগে ২০০০খ্রিঃ থেকে। বর্তমানে এমসিসি ক্লাব তৃতীয় বিভাগে জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থায় খেলছে। ২০০০ খ্রিঃ ডি.এস .এর সভাপতি ও মাননীয় জেলাপ্রশাসক মহোদয় ধ্রুবজ্যোতি ঘোষকে কিংবদন্তী ক্রিকেটার হিসেবে ক্রেস্ট দিয়ে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন।

বর্তমানে তিনি একজন মেলান্দহের জনপ্রিয় হোমিও চিকিৎসক, সমাজ সেবক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, চিত্রকর, ছন্দেঝিনাই লিটিল ম্যাগের সম্পাদক, পর্বতারোহী এবং কবি ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল এমসিসি ক্লাবেরই উদ্যোগে মেলান্দহে ক্রিকেট ডিউস বলে খেলার সূচনা করেন। এবং বাংলাদেশের প্রথম বেসিক এবং এ্যাডভানস প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পর্বতাভিযাত্রী বেসরকারী ভাবে পারিবাড়িক মাউন্টেননীয়ার্স রিং ক্লাব, মেলান্দহ থেকে প্রথম হিমালয়ে ট্রেকিং করে সন্দাকফু-ফালুট এবং তার পুত্র দেবজ্যোতি ঘোষ (বর্তমানে ডাঃ দেবজ্যোতি ঘোষ বি.ডি.এস.পিজিটি-ঢাকা) প্রথম কিশোর যিনি ১২,০০০ফুট উচ্চতায় ১৯৯৫খ্রিঃ সফল অভিযানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বাংলাদেশের মাউন্টেননীয়ার্স রিং ক্লাবটিই প্রথম সঙ্গঠন। সাংগঠনিক সূচনা(১৯৯৫খ্রিঃ)।

২০০৯ সালে পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গিরিপথ থোরাং লা পাস (১৮,০০০ ফুট/৫৪১৬ মিঃ) নেপাল হিমালয়ে ১২ জুন ২০০৯ নিঃসঙ্গ ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে প্রথম অতিক্রম করে প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে দুঃসাহসীক নজির স্থাপন করলেন এবং তিনি সে সময়ে অন্নপূর্ণা পর্বত (২৪,৬৮০ফুট) অভিযানে গিয়ে ক্যাম্প ওয়ান পর্যন্ত(১৭,৭১৬ ফুট) পৌঁছানোর গৌরব অর্জণ করেন । সেই সঙ্গে ৩৭৫ কিঃমিঃ হিমালয়ের দূর্গম পথ পায়ে হেঁটে অন্নপূর্ণা ট্রেইলস সফলতার সঙ্গে একাকী নিঃসঙ্গ ভাবে দুঃসাহসীক ভাবে পরিব্রাজণ করেন প্রথম বাঙালী হিসেবে পর্বতাভিযানের ইতিহাসে এ এক অনন্য এবং গৌরবময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান