“ম্যাকাভিটি: দ্য মিস্ট্রি ক্যাট” - আবিদ আনোয়ার
$post->title

টিএস এলিয়ট-এর “ম্যাকাভিটি: দ্য মিস্ট্রি ক্যাট”

কবিতার অনুবাদ
ম্যাকাভিটি: রহস্যবিড়াল
অনুবাদ: আবিদ আনোয়ার

[২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার অব্যবহিত পর টিএস এলিয়টের এই কবিতাটি অনুবাদ করতে প্রলুদ্ধ হয়েছিলাম। অকুস্থলের ভীত-সন্ত্রস্ত জনতার এবং আহত-নিহত লোকদের জুতা-স্যান্ডেলের ক্যামেরাচিত্রসহ কবিতাটি যথাসময়ে ছাপা হয়েছিলো প্রথম আলো সাময়িকী’র পাতায়। পরে আমার কবিতার বই ‘আটকে আছি মধ্যনীলিমায়’-তে গ্রন্থিত হয়েছে। মূলের সাথে সঙ্গতি রেখে অনুবাদে কক খখ অন্ত্যমিল রক্ষিত হয়েছে]

ম্যাকাভিটি নাম তার--রহস্যবিড়াল, ‘লুকানো নখর’ বলে তাকে ডাকা যায়:
চতুর সন্ত্রাসী তাই আইনের ফাঁক গ’লে নিয়ত পালায়।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড-কে রাখে ভীষণ বিব্রত, উড়ন্ত স্কোয়াড করে বেহুদা বড়াই
কেননা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি পৌঁছে দেখে অকুস্থলে ম্যাকাভিটি নাই।

ম্যাকাভিটি, ম্যাকাভিটি-- তার কাছে দুনিয়াতে হেয় আর সব;
মানে না নিয়মনীতি, মহাকর্ষ সূত্র নিজে তার কাছে মানে পরাভব।
এমন ভেলকি জানে, অপলক চেয়ে থাকে সাধুসন্ত অলৌকিক সাঁই―
অপরাধদৃশ্যে তুমি পৌঁছেই দেখতে পাবে ম্যাকাভিটি নাই।
অতল পাতালে খোঁজো, চষে ফেলো মর্ত থেকে বিশাল আকাশ,
কোথাও পাবে না তাকে―জানবারও সাধ্য নেই কোথা তার বাস।

ম্যাকাভিটি মূলতই আদাটে-বিড়াল, দৈর্ঘ্যে লম্বা, প্রস্থ বেশি নয়―
হয়তো চিনবেন তাকে পরিচিতজন, গর্তে-বসা চোখ তার ছড়ায় বিস্ময়।
ভ্রুযুগল চিন্তামগ্ন, সমুন্নত মাথা যেন প্রসারিত মাঠ,
হেলায় মলিন গাত্র, পশমে পড়েনি কোনো চিরুনীর শুদ্ধ পরিপাট।
নিয়ত দোলায় মাথা এদিকে-ওদিকে যেন হিংস্র সরীসৃপ
ভান দেখে মনে হবে অর্ধ-ঘুমে, অথচ চৈতন্য তার জাগর প্রদীপ!

ম্যাকাভিটি, ম্যাকাভিটি―তার কাছে দুনিয়াতে হেয় আর সব
বিড়ালের ছদ্মবেশে সে এক জঘন্য পশু, নষ্টামির দুরন্ত দানব।

তাকে তুমি দেখে থাকবে অলিতে-গলিতে কিবা প্রকাশ্য চত্বরে
অথচ কোথাও কেউ কখনো পাবে না তাকে ঘটনার পরে।
আপাত শ্রদ্ধেয় সে-ও (লোকে বলে ফাঁকি দেয় তাসে)
পদচিহ্ন রাখে না সে পুলিশের নথিপত্রে, মিলায় বাতাসে।

গোদাম লুণ্ঠিত হয়, বাক্স থেকে মণিরত্ন প্রায়ই যায় চুরি,
উধাও দুধের কৌটো, নিত্য ঘটে এবম্বিধ হরেক চাতুরি:
কোথাও গ্রীন-হাউজ ভাঙে কিংবা কোনো বেড়া ভেঙে যায়
একটাই আশ্চর্য কথা: অকুস্থলে তাকে পাওয়া দায়।
হাজারও সৌহার্দ্যচুক্তি ভেস্তে যায় দেখে কত বিদেশ-মন্ত্রক,
যুদ্ধের জাহাজ থেকে সহসা হারিয়ে যায় কত পরিকল্পনার ছক―
হয়তো দেয়ালে কিংবা সিঁড়ির উপরে কোনো বিস্রস্ত কাগজ
দুষ্কর্মের চিহ্ন রাখে―কী লাভ তদন্ত করে―খাটিয়ে মগজ
শেষমেশ দেখতে পাবো ম্যাকাভিটি সেখানেও নাই!
বিপুল ক্ষতির পরও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে বলা হবে আগের কথাই:
নিশ্চিতই ম্যাকাভিটি! কিন্তু পাবে কে তার নাগাল!
সুদূরে বিশ্রামরত, শরীর লেহনে মগ্ন চমৎকার কাটছে তার কাল
অথবা কোথাও খুব নিরিবিলি বসে
সহজে মেলে না ফল তেমন জটিল তার অঙ্কগুলো কষে।

ম্যাকাভিটি, ম্যাকাভিটি―তার মতো দুনিয়াতে কেউ নেই আর
ধাপ্পাবাজ শিরোমণি, দেখিনি এমন কোনো চতুর মার্জার।
পালাবার পথ তার অন্তহীন, একটি-দু’টি ফসকে গেলে ক্ষতি নেই কিছু,
অকুস্থলে ছিলো না সে, কে আর সন্দেহবশে ছোটে তার পিছু!

দুষ্কর্মে চিহ্নিত যারা লোকে বলে তারা খুব ছোট ও মাঝারি
(হয়তোবা মঙ্গোজেরী অথবা গ্রিডলবোন―এইসব নাম নিতে পারি)।
ধরা পড়ে শিষ্যা-শিষ্য, অনুচর, নগণ্য মার্জার―
বীর নেপোলিয়নের মতো অন্য কারো হাতে আছে নেতৃত্বের ভার।


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান