কবি আরিফুল ইসলাম এর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রি-অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন
মূলঃ আহমদ ফরাজ - অনুবাদঃ অরণ্য আপন
$post->title

আহমেদ ফারাজ ছিলেন জাতিতে পশতুন। ১৯৩১ সালের ১২ জানুয়ারি যার জন্ম।

আধুনিক উর্দু কবিতার প্রধানতম এক কবি ফারাজ। মূল নাম সৈয়দ আহমদ শাহ। আহমেদ ফারাজ নামেই লিখতেন তিনি। নয় বছর আগে ২৫ আগস্ট ৭৮ বয়সে মারা যান তিনি। কাকতালীয়ভাবে ২৫ আগস্টেই তার প্রধান কবিতার বই তানহা তানহা (একা একা) প্রকাশিত হয়েছিল।

ফারাজের কবিতার প্রধান বিষয়গত বৈশিষ্ট্য হলো রোমান্স এবং প্রধান ভাষাগত সৌন্দর্য হলো সারল্য। সেই একই কবির প্রধান সামাজিক বৈশিষ্ট্য ছিল সামরিক শাসনের সুদৃঢ় বিরোধিতা। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে—যা বরাবর ছিল দুঃসাহসিক। যার কারণে জেনারেল জিয়া-উল-হকের শাসনামলে তাকে প্রথমে কারাগারে যেতে হয় এবং পরে দেশ ছাড়তে হয়। আবার পারভেজ মোশাররফের সামরিক শাসনের প্রতিবাদস্বরূপ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তার ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ পদক। মৃত্যুর পর অবশ্য তিনি ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ পদকও পেয়েছেন।

পশতু ও ফার্সি ভাষায় শিক্ষাজীবন শেষে ফারাজ কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন রেডিও প্রডিউসার হিশেবে। পরে পেশোয়ারের একটি কলেজে শিক্ষকতাও করেন কিছু সময়।

রাজনৈতিক দ্রোহী মন এবং কাব্য প্রভাব—উভয় কারণেই তাকে তুলনা করা হয় উর্দুকাব্যের আরেক প্রধান চরিত্র ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের সঙ্গে। মেহেদী হাসান, নূর জাহান থেকে লতা মুঙ্গেশকর পর্যন্ত উপমহাদেশের বিখ্যাত অনেক শিল্পীর কণ্ঠেই সৌন্দর্যের অনন্য সুষমা পেয়েছে ফারাজের গজলগুলো। এখনও নিয়মিতই যা গীত হয়ে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়েও।


মানি যে ভালোবাসা লুকানোও ভালোবাসা
একদিন গোপনে চলে আসো প্রিয়া
আমার প্রতি ভালোবাসা দেখাতে।


ভাগ্যে যদি বেদনাই থাকে
তাহলে বেদনা দিতেই আস
তুমি আস
ফের ছেড়ে যাবার জন্যই আস


কতজনকে আর বলা যায় আমাদের বিচ্ছেদের কারণ!
তুমি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট
তবু আমার কাছে আস মানুষের মুখ বন্ধ করতে।


এ শহরের বাসিন্দাদের ভালোবাসায় আমি কত না ভরপুর আমি!
কিন্তু যে হাতেই আমি চুমু খেয়েছি
সে হাতই ছুরির ফলা হয়ে ধরা দিয়েছিল।


কেউ আমার হৃদয় বন্দি করে রেখেছে সত্য
তবু আসর বসবে
প্রেমিকার স্মৃতি রোমন্থন কোনো সন্ধ্যায় বাদ যাবে না।


আমিও
প্রেমের মরুভূমির পথিক ছিলাম ফারাজ!
ফুলের গন্ধ যেভাবে দমকা হাওয়ায়
সফরে বের হয়।


কেউ যদি ভালোবাসা নিয়ে আসে
ঘাড় ঝুঁকিয়ে দেব
আমি তো চাই যে
আমার শত্রুরও আঘাত দেবার কোনো চেষ্টা বৃথা না যায়।


চোখের জলে একটা ছবি অাঁকা আছে
ফারাজ!
সে আমাকে হাসি মাখা মুখে দেখে।


প্রেমিকার কথা মনে হলে আমার
নেশার মতো অবস্থা হয়ে যায়
মনে হয়
কেউ একজন আমাকে বাতাসের কাঁধে নিয়ে উড়ছে।

বইঃ আমি তোমার বান্দা হয়ে গেছি


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান