প্রথম টোকিও বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো !
$post->title

২ সেপ্টেম্বর টোকিওতে অনুষ্ঠিত হলো জাপানপ্রবাসীদের আয়োজনে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বইমেলা।

বাংলাদেশ সাংবাদিক-লেখক ফোরাম, জাপান প্রথমবারের মতো যে পূর্ণাঙ্গ বইমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল, তার নামই এই টোকিও বইমেলা।

২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় টোকিওর ইতাবাশি এলাকার ওইয়ামা গ্রিন হলে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী এ মেলার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

মেলার উদ্বোধক ও বিশেষ অতিথি জাপানের সাবেক মন্ত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ রাজনীতিবিদ হাজিমে ইশিই। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাৎসুশিরো হোরিগুচি, প্রয়াত রবীন্দ্র-গবেষক ও বাংলা ভাষার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজুও আজুমার স্ত্রী কেইকো আজুমা এবং লেখক ও রেডিও জাপানের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান কাজুহিরো ওয়াতানাবে।

মঈনুল শাওনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন ফোরামের সভাপতি জুয়েল আহসান কামরুল।

ফোরামের অনুমোদিত মেলার ঘোষণা পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক শাহরিয়ার মোহাম্মদ শামস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাবাব ফাতিমা বলেন, আশা করি বইমেলা এখন থেকে টোকিওর বাঙালিদের নিয়মিত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হবে।

পরে রাষ্ট্রদূত ও উদ্বোধক-বিশেষ অতিথি মিলে হাজিমে ইশিইর বইয়ের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিশেষ অতিথি ও মেলার উদ্বোধক হাজিমে ইশিই তাঁর বক্তৃতায় বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকায় জাপানি বিমান ছিনতাই ১৯৭৭ নামে প্রথমা প্রকাশন থেকে সদ্য প্রকাশিত তাঁর বইটি পড়ে ওই দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা তাঁদের দেশে চার দশক আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সক্ষম হবেন।

সেই সময় জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে দেন-দরবার চালাতে ঢাকা বিমানবন্দরে শ্বাসরুদ্ধকর কয়েকটি দিন কেটেছিল হাজিমে ইশিইর। সেই স্মৃতি তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখা বইয়ে। বইটি জাপানি ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন কাজুহিরো ওয়াতানাবে। আরেক বিশেষ অতিথি কেইকো আজুমা সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর স্বামীর গভীর ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন। মেলার দ্বিতীয় আকর্ষণ ছিল কয়েকটি বিষয়ভিত্তিক কিছু আলোচনা। জাপানে বাংলাচর্চায় নিজেদের জড়িত হওয়া এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর আলোচনায় অংশ নেন রেডিও জাপানের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান কাজুহিরো ওয়াতানাবে এবং বাংলা ভাষায় লেখা কয়েকটি বইয়ের জাপানি লেখিকা নাওমি ওয়াতানাবে।

আলোচনা পর্বের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশটি ছিল দুই বাংলাদেশি ব্যক্তিত্বের জাপানের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ী দুই সাহিত্যিকের সাক্ষাৎকার গ্রহণের স্মৃতিচারণা। জাপানপ্রবাসী প্রবীণ বাংলাদেশি আবদুর রহমান ১৯৬০-এর দশকে দৈনিক বাংলা ও অবজারভার-এ লেখালেখি করতেন। সেই সূত্রে ১৯৬৮ সালের শেষ দিকে নোবেলজয়ী জাপানি লেখক ইয়াসুনারি কাওয়াবাতার সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। অন্যদিকে এই প্রতিবেদকের সুযোগ হয়েছিল সাহিত্যে দ্বিতীয় নোবেলজয়ী জাপানি ঔপন্যাসিক কেনজাবুরো ওয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়ার।

এই অংশে দুই সাক্ষাৎকার গ্রহীতায়ই তাঁদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। দিনের অন্যান্য পর্বের মধ্যে ছিল প্রবাসী নারীদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা নিয়ে উপস্থাপনা এবং শিশুদের কণ্ঠে কবিতা ও গান। শিশুদের সেই আয়োজনে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করে শোনায় অনুসুয়া। সবশেষে মেলায় অংশ নেওয়া লেখকদের সনদ এবং মেলার আয়োজনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রশংসা-সনদ প্রদানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় জাপানের রাজধানীতে আয়োজিত বইমেলা। সনদ প্রদান করেন জাপানপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা অজিত বড়ুয়া। দিনব্যাপী এই বইমেলায় সারা দিনই দর্শকের উপস্থিতি ছিল আশাব্যঞ্জক।


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান