নাঈম ফিরোজ এর গুচ্ছকবিতা
$post->title

কবি : নাঈম ফিরোজ

বিগব্যাং


ঘুম থেকে উঠে দেখি ভূমধ্যরাস্তায় বসে আছি একা।

আমাকে রেখেই অসময়ে ঘুমোতে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার সব টায়ার্ডচাকার ফেরারি ফেড়ারিগুলো।

দূরে গ্যাংব্যাং এ রত হেলেনিক আর গথিক সব লাল লাল দালানকোঠা।

এইরকম তেরটি দৃশ্য ক্লাইভ বা সিরাজের যুদ্ধচিন্তা থেকে ঝরে যাচ্ছে একে একে, দেখলাম।

এলিজাবেথের কাঠের চেয়ারের দিকে হাত বাড়িয়ে আছে যে তাকে আমি আমার নাম ধরেই ডেকে দেখি খুব রেসপন্স করে।

কয়লা ও রেজিনের আঠা
মনে মনে
সভ্যতার সাথে সহবাস।

গাল ধরে অথেলোর পেলবতায় নসিহতের ভানে একটু টেনে দিয়ে আমায় আবার ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে গেলেন শেক্সপিয়ার।

অথচ আমার প্রেম খুব রবীন্দ্রপন্থী আজও।
আমি জানিনা, জিউস জানেননা, যিশু জানেন কি?

হেমরোদের স্পার্ম চুরি করেই জং ধরা এ ব্রিটিশ সকালও একটানা একটা অবশ অবৈধ উপনিবেশ পেটে ধরে আছে।

হে রজতরক্তের অশ্রুবৃন্দ

(কবি সানোয়ার রাসেল কে)

[কেউ কেউ একেবারেই
নিজের চেয়ে
বড় হবার উচ্চতায়
উড়তে যাননি।]

.

হে নীল রৌদ্র, কম্রছায়ার সন্তান
কারা যেনো গানের অন্তরায় অতর্কিত এসে
তোমার শিরোচ্ছেদ করে দিয়ে গেলো

হে অগ্নি-বিদআত
তোমার কবিতা

কবি-

সে, যার কবিতা প্রত্যেকবার একটি বুলেট!
সে, যার প্রথম কাব্যগ্রন্থ একটি মুক্তযুদ্ধ।

হে রজতরক্তের অশ্রুবৃন্দ

তোমরা একা ও অধীর

রহো!

হে অগ্নি-বিদআত
(তোমার কবিতা ও) তুমিও আশ্রয় পাবে।

তুমি মুক্ত!

যাযাকাল্লাহু খাইরান।

মিরান্ডা

(Carmen Miranda কে)

২.

আমার কবেকার চুপ শৈশবে কমলায় ম্লানিমা,
আর নেমে গেলেই গ্রীনিচের মানমন্দির থেকে টেমসমুখিন
এর চেয়েও মুখ্য এক হরিদ্রা লেজার আলোয় তোমাকেও
প্রৌঢ় বিহগ মনে হয়, মিরান্ডা!

১.

ভালোতো!
তুন্দ্রায় হাঁটছেন মিরান্ডা...
অহোরাত্র এখন ভালো ভালো কবিতাও বিক্রি হবে
ইউরোপকেন্দ্রীয় ক্রিস্টমাস এর হাটে আর
বাংলায় বাংলোয়,
আমি যাত্রিক পৃতজুন, ন্যায়গ্রহের, ফের।

_______________________
[Carmen Miranda was the first Latin American star to be invited to imprint her hands and feet in the courtyard of Grauman's Chinese Theatre, in 1941. She became the first South American to be honored with a star on the Hollywood Walk of Fame. She is considered the precursor of Brazil's Tropicalismo cultural movement of the 1960s. A museum was later constructed in Rio de Janeiro in her honor,and in 1995 she was the subject of the acclaimed documentary Carmen Miranda: Bananas is My Business.]

দিকে দিকে বাজুক পিউকাঁহা


উড়ে যায় যাটুকু জলপাখি
তার ঘাসসুরে বিপিনবিহারী গান,
শোনো বোকা লিখে যাও
কাঁচা কুয়াশায়, ফোয়ারায় ম্লান।

হাল্কা পশমের আড়ালে
কার করে চঞ্চু ঝিলমিল
পুলিনবিহারী বিশ্বাসে

পিউকাঁহা এই
শ্মশানভূমি এই
ইন্দ্রধনু এই

উড়ে যায় যাটুকু জলপাখি অদূরবর্তী
তার হিজলহিম মুখে আমিও শুনি,
প্রজাপতিবিহারী বীণা

ফেনিল ধূল,
কী অবসন্ন, হরিণের মায়া ঝরে

এই দিন হোক মাছরাঙা-উজ্জ্বল!
ঘাসসুরে বিপিনবিহারী গান।

স্বপ্ন-শিকস্তির কীর্তন


এলার্মধ্বনি থেকে কিছু দূরে গান
ভাঙছে কী ভাঙছেনা নিরর্গল

'আমিঘুম' আর আলো অলিন্দে, পলাশের ডালে জ্বলজ্বল।

থেমে থেমে—
ভাঙা ভাঙা স্বপ্ন-শিকস্তিতে দেখা যাক...

১.

আবছায়া দিবালোক।

২.
একবার সাড়া দিয়ে চাঁদ—
অনেকদূরের পাখির ডাকে গেলো ডুবে আবার।
একবার সাড়া দিয়ে চাঁদ—
অনেকদূরের পাখির ডাকে ডুবে যাবে আবার।

৩.

মল্লিকার গ্রামে সঘন পাতায় আমাদের শৈশব— পথ হারিয়েছে

৪.

আমি পড়ে পড়ে যাচ্ছি ১৯৯০ সাল থেকে—
জগতের বিরাট নগরে।

৫.

কিছু নেই উন্মাতাল—
আত্মহননের দামে নিজেকে কিনছে কবি।

৬.

আমাদের জন্মের শোধ নিতে
উলান বাটারে একে একে নামছে কি আবার চেংগিস খানের ভুল?

.

ধীরে ধীরে—
গাঢ় অনিচ্ছায় বেজে যায় এলার্ম ও ধর্মকল,
অফিসের গাড়ি এলে জলেশ্বরী নেমে যায়— জমিনে ছড়িয়ে পড়ে।

নারীপ্রহরীর ঘুঙুর

মেঘ ও মোমের প্রতি দাবীঃ
গললে গলে যাও
গলে অনেক দূর থেকে ভারী করে ফেলো কান্নাখেকো স্মিতরাত্রির কালোরঙ

অভ্রপুস্প ও কতক মিহিকাপড়ের ফ্রক উল্টালেই বীর্যবীরের জন্য নামে ফেটিশ পাল্কি

কানে আসছে তোমার বুকনায়িকার শ্লোকঃ
ওইটা স্লেজ ওইটাও স্লেজ ওই ওই ওইটাও স্লেজ!

এই কুকুরসংক্রান্তির রাতে স্মোকড সারডিন কিম্বা স্যামনের জন্য না জাগি আর
পতাকার দন্ড কামড়ে কামড়ে ধুকপুক ধুকপুক

জাহাজ ও মিমি চকোলেট নিয়েও তোমার নারীপ্রহরীর ঘুঙুর চাবাতে হয় শুধু দাঁতাল আত্মাটাকে মিইয়ে যেতে দেবেনা বলে,

দিওনা পোলাসুরত!

চরিত্রচ্যুতিচিহ্ন।

আজও তোমার পাজামার গিঁট আটকে আটকে যাওয়া নিয়ে লাখো প্রতিবেশীর মেয়েকুটুমদের টেবিলে একটু মিডিওকার গাঁজাখুরি ও ঝালগল্প আবিষ্কার হচ্ছে এই যা!

ও কিছুনা, সেরে যাবে।


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান