বাস্তবধর্মী ছড়াকার জুসেফ খান - শাকিল আহমেদ মুন
$post->title

গ্রন্থের প্রচ্ছদ


 

সূচনাপত্র: জুসেফ খানএকজন বাস্তবধর্মী রম্যকথার ছড়াকার্ রসবোধের জায়গা ছন্দের ভিতর দিয়ে বাস্তব চিত্রপট করেন অনায়েসেপ্রতিটি ছড়ার ছন্দে ফুটিয়ে তুলেন সমাজ বাস্তবিক জীবনে নানান অসংঘতির জটবাঁধানো চিত্র ভাবনায় উঠে আসে ছড়ার ভিতর আদি ও বর্তমানের কৌতুহল নির্মাণ করেছেন তার চতুর্থ ছড়ার গ্রন্থ সোৎপ্রাস”,প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থ মেলা-১৯ এ

গ্রন্থ পরিচিতি: সোৎপ্রাসছড়ার বই, লেখক জুসেফ খানগ্রন্থটির পৃষ্টা সংখ্যা ৪৮টি, বাসিয়া প্রকাশনী হতে প্রকাশিত, প্রকাশকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ গ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন সিনাজ আনহু খান, ওঝইঘ: ৯৮৭-৯৮৪-৯৩৬৪২-৫-২ উৎসর্গ পত্র করা হয়েছে জুসেফ খান এর  প্রয়াত চাচা ছড়াকার, অধ্যাপক বদরুল আলম খান এর  নামেএখানে ৪৪টি ছড়া স্থান পেযেছেগ্রন্থটির মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা

পর্যালোচনা: গ্রন্থটির মূল্যায়ণ পত্রে কয়েকটি লাইন লিখার আগে বলে রাখি, আমি প্রতিটা ছড়ার আপাদমস্তক পড়েছি এবং বুঝার চেষ্টা করেছি নিজের মতো করে  ছড়ার পর্যালোচনা করার মতো আমার তেমন জ্ঞান নেই তবে, আমার বোধ্যগম্য জ্ঞানের ভিত্তিতে কিছু কথার বোধপত্তিগত করার চেষ্টা রইলোআমার পটুকারিতার সর্বপ্রথম ছড়ার ময়নাতন্ত্রে আপাদমস্তক চোখের আলোয় মস্তিকে ভরে নিলাম নিজের মতো করে   এর মাঝে কতক গুলো ছড়ার পর্যালোচনার স্বচেষ্টা এখানে বিদ্যমান ছড়া...

 

সুখী বুলবুল

--জুসেফ খান

 

আমীর আলী বুলবুল

আছে টাক নেই চুল

সাথে বড় জুলফি

খাবারেই রুচি তার

পোলাও আর রোস্টার

টক দই,কুলফি

 

১ম অংশ বিশেষ, রম্য ছড়ার এক বিশেষ রূপ এখানে বিদ্যমান যে, একজন রূপক চরিত্রকে কেন্দ্র করে তার বিশেষ দিকগুলো তুলে ধরেছেন অসাধারণ মুক্ত ছন্দের ভিত্তিতে যেখানে তার ছড়ার চরিত্র ও বাহ্যিকতার আলোকে বর্ণনা করেছেন অন্যবদ্য সুনিপুণতায় এখানে একটি দৃশ্যমান চরিত্রকে রূপক নামে প্রতীয়মান করেছেন, এবং বাহ্যিকতার বাহার গুলো তুলে ধরেছেন ছন্দের ভিতর দিয়ে

আমীর আলী বুলবুল

আছে টাক নেই চুলএখন ম্ক্তু ছন্দ গুলো দৃশ্যমান ছন্দে ছন্দে

সাথে বড় জুলফি

খাবারেই রুচি তার

পোলাও আর রোস্টার

টক দই,কুলফিচরিত্রে ভিতর দিয়ে মানুষ যে কতটুকু অভ্যাসে পরিণত হতে পারে তার এক দৃষ্টান্ত ছড়াকার স্বার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন

 

বলে রাখি জাহাপানা

হাতিসম দেহ খানা

যদি দেখ একবার

স্মৃতি হয়ে রবে সাথে,

স্বপনেতে নিশি রাতে

পাবে না তো নিস্তার

দু-মিনিট হেঁটে চলে

ঘন্টা সে বসে গেলে

বলে নই আলসে

আজ হেঁটে কী হবে,

তাড়া আছে কি ভবে

বলে যাবে কাল সে

 

২য় অংশ বিশেষ, ছড়াকার তার ভাবনাকে তুলেছেন, এমন ভাবে, “বলে রাখি জাহাপনা/হাতি সম দেহখানা এখানে চরিত্রের সাথে শরীরে বর্ণনায় যে তার প্রস্তুতপন্ন ছন্দের উৎপত্তিকে দারুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেনআবার যদি দেখ একবার/স্মৃতি হয়ে রবে সাথে/স্বপনেতে নিশি রাতেছড়াকার তার উচ্চমাঘ্য ভাবনাতে তুলে এনেছেন তার বাস্তব ভাবনার আগামীর কল্প ভাবনার কথা অসামান্য ভাবে তুলে ধরেছেনদু-মিনিট হেঁটে চলে/ঘন্টা সে বসে গেলে তাড়া আছে কি ভবে বলে যাবে কাল সে এমন করে তার অজস্র ছন্দের ভিতর দিয়ে ছড়াকার রূপক ছড়ার চরিত্রটি সুনিপুন ভাবে তুলে ধরেছেন স্বার্থকতার ভিতর দিয়ে

 

লাকিভূষণ সংবাদপত্র বিতান

--জুসেফ খান

 

লাকি ভূষণ ক্ষ্যাপা ভীষণ

দুঃখ বলেন কাহারে

বিক্রি তো নাই, নাই তো কামাই

বই ব্যবসায় আহারে

 

এখানে ছড়ার ১ম অংশ বিশেষে, ছড়াকার সময়ের কথা গুলো ছন্দের ভাব তালে তুলে ধরেছেন অন্যবদ্য সরল কারিগড়ি আওতার ভিতর দিয়েবাস্তবকথন যে কতটুকু শক্তিমান হয় তা এখানে প্রতীয়মান হয়েছেবই ব্যবসার হাট বাজারের চিত্রপট ত্রিনয়ন দিয়ে আঙ্গুল তুলে দেখাচ্ছে রীতিমত তার বাস্তবচিত্র

 

কিনবে ক্রেতা, আদিখ্যেতা

হাজার চিন্তা-ভাবনা রে

ক্রেতার জ্বালায়, মন যেতে যায়

ভূষণ বলেন-পাবনা রে

 

ছড়ার ৪র্থ অংশে ছড়াকার যে ক্রেতার বিড়ম্বনার যে আদিখ্যেতার ভাবনায় পড়ার কথায় পাগল হওয়া উপক্রম ঘটে, যেখানে সেই উপক্রমের নিস্তার খোঁজচ্ছেন পাগলা গারদের ভাবনা, সেই ঠিকানা পাবনাক্রেতার যে আবদার অবতার চাওয়ার মতো রিক্ত বিরক্ত হয়, রূপক চরিত্রের ভূষণ নিজে ছড়াকার তার ছন্দের ভিতর দিযে যে বাস্তব কথা গুলো সত্যনিষ্ট ও দৃশ্যমান করে তুলেছেনএখানেই ছড়াকারে তার বিশেষত্ব ছন্দ বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন

 

পাতা ঝরার দিন

--জুসেফ খান

 

করকর ঝরা পাতা

মরমর হাটাতে

রঙিন এই গালিচায়

দিন-ক্ষণ কাটাতে

 

ছড়াকার তার প্রকৃতির রূপ বৈচিত্রকে ছড়ার অন্তদৃষ্টি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন অন্য রকম, অন্য রকম ভাবনার তুলিতে বসন্তের ঝরা পাতায় অথবা ঝরে যাওয়া পত্র পল্লবে, যে মধুর ধ্বনি তার রঙিন গলিচার সাথে তুলনা করেছেন প্রকৃতির কাছে ছড়াকারতার অন্তুদৃষ্টি যে কত অন্তগভীরে তার আরেক বার বুঝিয়ে দিলেন এখানেই ছড়াকারে দৃষ্টিকোনে ছড়াটি স্বার্থকতার মুখ দেখেছে

 

রূপে রূপে অপরূপ

প্রকৃতির এই খেলাতে

ভালো লাগে রঙে রঙে

তাই চোখ মেলাতে

 

ছড়াকার তার এই ছড়ার শেষাংশে যে রূপে রূপে অপরূপে যে প্রকৃতির রূপের খেলা তার রঙ যে বহুরূপী ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয় তার অপার বিস্তৃতির কথা অসামান্য ভাবে তুলে ধরেছেন অকৃত্রিমতায় ছড়াকার তার প্রতিটি কথার মর্মাত্ব দারুন ভাবে উপলব্ধীর বিষয়ে পাঠক মহলের ভিতর স্থান করে নিয়েছে চোখের ভিতরেও যে বহু রঙের খেলা করে তার বিস্তৃতির কথা ছড়াকারে ছন্দের তালে তুলে ধরেছেন অনুপম ধারায়যেখানে রঙের বর্ণছটায় চোখে মেলে তাকালেই ছাড়াকার জুসেফ খানের অন্তদৃষ্টির বহু রঙের চোখের পাতা খোলে যায় অপার দৃষ্টির মহিমায়ছড়াকার এখানেই স্বার্থকার পরিচয় দিয়েছেন

নিঃসন্দে ছড়াকার ‘‘জুসেফ খানএর সোৎপ্রাসছাড়ার গ্রন্থটি একটা স্বার্থক গ্রন্থ হিসাবে প্রতীয়মান হয়,এর ফলে উত্তর উত্তর ছড়াকারে জনপ্রিয়তা ও গ্রন্থের  পাঠকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবেআগামীতে ছড়াকারের আরো প্রকৃতি,বাস্তবধর্মী এবং রম্যছড়া বাংলা সাহিত্যকে আরও বেগবান ও সমৃদ্ধি করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান