আব্দুল্লাহ্ জামিল এর সনেটগুচ্ছ
$post->title

কবি : আব্দুল্লাহ্ জামিল

অন্তিম সময়ে

.
হৃদয়ে গচ্ছিত সুর আপন কানে শ্রবনে বার বার কাঁদি
একলা সাঁঝের বেলা বেদনা বিধুর মনে করুণ আকুতি
মস্তিস্কের প্রকোষ্ঠে কে যেনো জ্বেলেছে নতুন প্রণয়ের বাতি
বিচ্ছেদের আদালতে মামলায় স্বাক্ষ দিলো কোন্ সেই বাদি
চঞ্চুতে বহন করে খাদ্য নিয়ে উড়ে চলে পাখি নিরবধি
বিরহ বেদনা সহ্য করা নিয়তির খেলা, এই পরিনতি
অথচ অবুঝ মন অকারণে কেনো যেনো করে আতিপাতি
চারদিকে ভাঙনের শব্দ কি ভাবে যে পাড় রক্ষা করে নদী।
.
প্রেমময় ভুবনের সৃজনে কেটেছ কতো অযথা সময়
ডেকেছে পাখিরা বনে বনে বিরহের সুরে সাথীর সন্ধানে
কেউ কেউ তবু পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিতজনকে আনন্দাশ্রু নিয়ে
জীবন বয়ে চলেছে সময়ের পিছু পিছু অবিরাম হায়
কে যেনো প্রতিনিয়ত অন্তিম গন্তব্যে শুধু জোরদার টানে
জীবনের অবসান হলে সকলে ফিরবে ঘরে গোর দিয়ে।

ভালোবাসার অনুযোগ

.
সব অভিযোগ আর অভিমান আসে
নিয়ত আমাকে ঘিরে তোমার হৃদয়
যা কিছু অনর্থ ঘটে আমারই দায়
আঁচলে লুকিয়ে শুধু দুষ্টু মন হাসে
অভিমানে ভালোবাসা তোমার প্রকাশে
তারাদের দেশে মেঘ উড়ে উড়ে যায়
বন্ধুরা তোমাকে নিয়ে বিতর্ক সভায়
আমার সকল চিন্তা তোমার সকাশে
.
এতো অনুযোগ তবু কেনো করো তুমি
ভুলোমনা জানো আমি ভুলি কতো কিছু
মনের দেয়ালে কি যে লিখেছো পড়িনি
সব ভুলে তবু বারে বারে যাও চুমি
হৃদয় আমার নেয় তোমারই পিছু
ভালো না বেসে থাকতে তো আমি পারিনি

ফাগুনের দিনে

.
পাতা ঝরা শেষে নব কিশলয়ে যেনো
প্রাণের স্পন্দন জাগে নবীন মননে
কুয়াশাবৃত আকাশে কালো মেঘ আনে
প্রবল শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস কোনো
ঝড়ো হাওয়ায় ঝরে পাতারা তখনো
যেমন ঝরেছে প্রাণ সেদিন ফাল্গুনে
নিঃস্বার্থে কেবল মাতৃ ভাষারই টানে
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিয়ত জানানো।
.
বছর বছর আসে ফাগুনের দিন
সাথী খোঁজে পাখি বাঁধে নীড় সুনিবিড়
সব ফুল কুসুমিত শ্রদ্ধা শহীদের
আধুনিকতার নামে না হই বিলীন
চারদিকে দেখি ভীড় অপসংস্কৃতির
না ভুলি মহিমা সেই আত্মত্যাগের।

অভিসম্পাত

.
প্রতিশোধে বয়ে আনে কত প্রতিঘাত
নির্লিপ্ত আঁধারে কেউ ভালোবাসা খোঁজে
সম্বিৎ ফেরে যখন রিক্সা-ঘন্টা বাজে
দুঃখের দুয়ারে সুখ হানে করাঘাত
হৃদয়ের সব কথা তো জলপ্রপাত
ঝরে পড়ে শূন্যতার সুগভীর খাঁজে
এতো প্রহসন শেষে মগ্ন নিজ কাজে
কিসের লাভে করছো যে অভিসম্পাত
.
ভোলা তো যায় না ফেলে আসা স্মৃতি
যন্ত্রিক জীবনে আসে মেকি প্রেম কত
জটিল সম্পর্কে টেনে নিয়ে আসে যতি
সকল কষ্টের মাঝে বিলীন সতত
এখনো আকাশে জ্বলে স্বপনের স্বাতী
মুছে যায় হৃদয়ের কালো ক্ষত যত

বিলুপ্তি

.
এক ঝড়ের একটি দৃঢ় আলিঙ্গন কোনো এক ঝর্ণাকে বিমূর্ত করে
তারপর তাণ্ডবের সকল ঝঞ্ঝাট ঝেড়ে ফেলে সাগরের দিকে চলে
অরণ্যে লুকানো সব সম্পদের ঝলকানি দেখে পশুপাখি চমকালে
সব নুড়ি পাথরের ঠুকাঠুকি অবিরাম এক সঙ্গীত রচনা করে
সকাল বিকাল সেই অরণ্যে বাদামী পাতা অবহেলাভরে ঝরে পড়ে
গায়ে কাঁপন লাগলে শীতের ভোরে সবাই আগুনের দিকে ছুটে চলে
ক্লান্তিতে দিনের শেষে সূর্য ঘুমে ঢলে পড়ে পশ্চিমের নিরাপদ কোলে
সকল পাখিরা খেলা ফেলে গোধুলী বেলায় ফিরে চলে নিজ নিজ নীড়ে
.
বহুদিনের প্রেমের ইপ্সিত ফসল হলো দুজনের সেই স্বপ্ন দেখা
আবার সুরের দোলা লাগে মনে ক্ষণে ক্ষণে রাতদিন হৃদয়ের কোণে
ফিরে যাই চিরচেনা মননের গহীনের সেই নির্জন সবুজ বনে
অন্তিম বেদনা ভুলে একাকী গাছের নিচে শেষ হবে জীবনের রেখা
কেউ আসবে না আর জানাতে সমবেদনা সমাধিতে ফুল কোনো ক্ষণে
অমর কাহিনী কোনো হবেনা রচনা আর থাকবো না তাই কারো মনে


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান