টিপু সুলতান এর কবিতাগুচ্ছ
$post->title

কবি  : টিপু সুলতান

কেউ তদন্ত না করুক

আকাশের আলপিনে ঝোলানো
আমার শাদা পাঞ্জাবিতে
তাঁর ঠোঁটের ভিটামিন রঙ লাগানো

হাঁটছি তো হাঁটছি।জলপথে গৃহবধূর নদীকূল ধরে
পেছনে সরে যাচ্ছে অনাগত পথ,খুঁটছি ফাল্গুন-
বাতাসের গোপন গল্প ভাড়া দিতে দিতে
পুরান ঢাকার তিন গলি মাথায় বসন্ত-বৈশাখ;
একদিন এই পথ বাঁকে,
একলা পথ যেতে যেতে বটপাতার ফাঁকে
নিশকালো কাকেরা সাহিত্য নগরীর মদ পানে
প্রেম ভক্ত যুবকের ধ্বনিঠুলির কা'কা শোনায়-
পুরান ঢাকার গায়ে জ্বরগো-জ্বর;
কোকিল ধ্বনি ফুটতে ফুটতে
দোয়েলচত্বরে কেটে যায় একটি বৃহস্পতিবার-
নিরঞ্জন দুপুরে বর্ষা এসে গেছে।এ প্রেম কেউ তদন্ত না করুক।



তোমার নামে একটি পাহাড় কিনেছি


তোমার নামে একটি পাহাড় কিনেছি
চলো রাত জাগি
চওড়া বাতাস মাখি দুজনে
দর্শনের চোখ খুলে দেখি
রাতের আকাশ
তাওয়া দেওয়া জ্যোৎস্নার সাহারা চাঁদ;

শক্ত করে ধরো,আরও কাছে।খুব জড়িয়ে-
দূরে টিমটিম জ্বলা গেঁয়ো পল্লীতে জোনাকিপোকা ওড়ে
তাঁরপাশে অন্ধকূপের মতো রেইনট্রি ঝোপঝাড়-
মকবুল বুড়োর ডুবে থাকা পৈত্রিক দিঘী,
শেওলাগুলো লেজ ঝুলিয়ে বসে গেছে
হীমযুগ ঠাণ্ডার মোটা জলে
আর আমি শোনাবো পুরাতন সুরে মধু মালতি গান।



জলমুদ্রা


চোখের জল এত নোনতা,স্রোতের ধ্বণিতে
হুড়মুড়িয়ে ফেরত দেয়
নিঃসঙ্গতা আর সুখ হারানোর গান-জলমুদ্রা;

কার কাছে যেন সুখ হাওলাদ চেয়েছিলাম
বহুঘর-দরজায় সম্মুখে নোলক পরা নতুন বধূর পাড়া থেকে
বিছিন্ন আগ্রাসী ছেলেপুলের শিস লুটে
হাজার বছর দখিনা হাওয়ায় গাছ দোলানো
সজনাপাতায় অনেক যুদ্ধের ঢেউ গুণে
আকাশে-আকাশে গ্রহাণু,পাখি পালকের খাসকামরায়
ভীষণ ব্যথার পটভূমিতে জলমুদ্রার বসন্ত যায় লিখে-



বীজ থেকে দৈর্ঘ্য পৃথিবী


প্রতিদিন পাথরকুচি পাতার মত
প্রসন্ন উৎসবের গান গাচ্ছে
ফুরফুরে মেজাজে-লেবু গন্ধের নির্যাসে
অল্প বয়েসী প্রেমিকের
শরীর নিঙড়ানো আগ্রহী আগত ঘাম

কখনো বিভোর স্বপ্নে চাঁদ উলটায়-
ঝটপট সিদ্ধান্তে তরুণ ছন্দ বায়ু সিনেমার নৃত্যশালা,
কখনো ছদ্মনামে শরীরের রঙ পালটায়
মন খারাপের ব্যত্যয় ভেঙে-গোলপাতার ঘর
ছেঁড়াখোঁড়া দেওয়াল ভরা বঙোপের হিমালয়-সুন্দরবন,
বোতাম ভাঙা ময়লা জামার আলপিনে
পালতোলা নদীর ডুবছবি,
দু দিকে শহর আর গ্রামের পথ মধুভ্রম দরজা আঁকে-
সকল ঋতুর বর্ষাগম বীজ থেকে দৈর্ঘ্য পৃথিবী।



এখন কথা বলার সময়


আমার বাসিন্দা পাড়ার ফুলগাছ দেখতে
ও পাড়ার মেয়ে
দৈনিক গ্রাম্যগলির পথ ধরে হেঁটে যায়
খুব ভোরে
জানালার রোজগার বাতাসে
প্রজাপতি ওড়ে,
দুচোখের লজ্জারং তাঁর চোখ আঁকে;প্রেম।

এই ব্যাকুল আনন্দ
আর মৃদু হাসি মেলে ধরে
সুমিশ্রণ নোনতা নোনতা থুঃথুঃ গিলে খায়-
সংসারের সকল ঠিকানা;
বসন্ত এসে গেছে।বর্ষা এসে গেছে।
এখন কথা বলার সময়।

সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান