মেহেদী ইকবাল এর কবিতাগুচ্ছ
$post->title

কবি : মেহেদী ইকবাল


কি ভেবেছিস্

কি ভেবেছিস্ হারামজাদা, দেশটা তোদের বাবার?
যা খুশী তাই করেই যাবি, টাকার গরম দেখিয়ে যাবি?
চোরগুলোকে ম্যানেজ করে রেহাই পাবি ক'বার?

বোনের গায়ে হাত দিয়েছিস্, ভাই জেগেছে কোটি
হারামজাদা, এবার তোদের ছিঁড়বে ওরা টুঁটি!

সীল করে দাও সবগুলো পথ, ধর্ষকদের ধরে
জ্বালাও আগুন, দাও ছুঁড়ে দাও, মরুক ওরা পুড়ে!

লক্ষ শহীদ ঘুমিয়ে আছে, জাগবে না -কি আবার?
কি ভেবেছিস্ হারামজাদা, দেশটা তোদের বাবার?

'ক 'এবং গোল্লা ভাই


আমাদের ব্যঞ্জনবর্ণের শুরু 'ক 'দিয়ে
'ক 'দিয়ে শুরু হয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শব্দ।
ট্রেনের প্রথম বগীর নাম 'ক ','ক 'দিয়ে শাখা প্রশাখা
গ্রুপের নাম, গণিতে, সম্পাদ্য উপপাদ্যেও 'ক '।
'ক 'দিয়ে কবি, কবিতা, কন্ঠ, কন্টক
আমাদের কন্ঠরোধের ইতিহাস বেশ পুরোনো
কন্ঠ রোধ করা হলে এখন আর কেউ কন্ঠই খুলি না!
'যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে 'কেউ আর রুখে দাঁড়াই না!

'ক 'নিয়ে একটা এ্যাড দেখলাম টিভিতে
নতুন গাড়িতে কে যেন লিখে রেখেছে বড় একটা 'ক '
ফুটফুটে এক শিশু তার মাকে দেখাচ্ছে, মা দেখ, কত বড় 'ক '!
এই 'ক 'নিয়ে একটা গল্প আছে স্কুলে
আমাদের আবদুল্লা আরবী খাতায় কিছু না পেরে
বিরাট একটা 'ক 'লিখে স্যারের উদ্দেশে লিখেছিলো 'দেখ্ শালা, কত বড় 'ক '?

এই 'ক 'দেখে আরবী স্যার রেগে না গিয়ে হেসে ফেলেছিলেন
আমাদের 'ক 'দেখিয়ে তিনি লিখেছিলেন
'আবদুল্লারে আবদুল্লা
তরে দিলাম তিন গোল্লা! '

তিন গোল্লার আবদুল্লা এখন কোথায়, আমি জানি না
তবে আমাদের পাড়ায় সত্যি সত্যি একজন গোল্লা ভাই আছেন!

বাবড়ী চুলের গোল্লা ভাই 'একাত্তুরে যুদ্ধে গিয়েছিলেন
জামালপুরের বোসপাড়ার গোল্লা ভাই

আপনাকে সালাম!

বেলুন


বৃথাই রহস্য খোঁজা, গবেষণা বিস্তর
রঙের চমক যদিও বা আছে, আর আছে
স্পর্ধা উড্ডয়নের। এই তথ্য অনেকেরই অজানা
ওজনহীন, শেকড় হীনেরাই যুগে যুগে উর্ধবগামী।

বেলুন, যতই তুমি উড়ো
ভেতরে শূন্য তুমি, একেবারে ফাঁপা!

ফুলকপি বাঁধাকপি


হাহ্ হাহ্ হাহ্
আমি ব্রহ্মপুত্রে তিমিদের জলকেলি দেখি।
আরে না ,তিমি না! কোনো এককালে দেখেছি বটে
শুশুকের পিঠ! হাহ্ হাহ্ হাহ্
মনে পড়ে জুবিলী ঘাট। কখনো সেলিম, কখনো বাদল ভাই
নিয়মিত থাকতো বটে গল্পকার সালাউদ্দিন পাঠান!
দু 'জনে ভিজতাম জলে। আরে না, ভিজতাম না!
কখনো মেঘ হয়ে, কখনো পাখি হয়ে উড়ে বেড়াতাম।
হাহ্ হাহ্ হাহ্

আজ পঁচিশে বৈশাখ!
রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ বটে ডিসি আর এসপি 'রা
হাহ্ হাহ্ হাহ্
রবীন্দ্র ভক্তরা মনোযোগে শুনছেন তাহাদের কথা।
হাহ্ হাহ্ হাহ্
রবীন্দ্রনাথ বিরাট একজন কবি ছিলেন
আবার তিনি জমিদারও ছিলেন!
হাহ্ হাহ্ হাহ্

আটান্ন জন জোকার নিয়ে মঞ্চে এসেছেন শ্রেষ্ঠ জোকার!
হাহ্ হাহ্ হাহ্
বাচ্চারা হাততালি দাও, এবার জমবে খেলা!
হাহ্ হাহ্ হাহ্

ভাই, এইটা আপনি কি লিখলেন?
এইটা কি কবিতা হৈলো ?

হ্যাঁ, হৈলো! আমাদের গণতন্ত্রের মতো
ইহাও এক ধরণের কবিতা!
হাহ্ হাহ্ হাহ্

এমন কী ফুলকপি, বাঁধাকপি ,মলা, ঢেলা, পুঁটিমাছ
এইগুলাও দারুণ সব কবিতা!

রবীন্দ্রনাথ


আজ পঁচিশে বৈশাখ
দেখি আকাশে মেঘ হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ
এমনকী গাছের শাখায়, নদীর বাঁকে বাঁকে
মৃদুমন্দ হাওয়ায় দুলে উঠছেন রবীন্দ্রনাথ!
শিশুরা অবাক হয়ে দেখছে, তাদের সামনে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ
স্কুলের বালক বালিকারা 'আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালোবাসি 'গেয়ে শিখছে দেশকে ভালোবাসতে।
আমাদের আনন্দ সৈকতে ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ছে রবীন্দ্রনাথের গানগুলো
শিউলী, মাধবী, জবা আজ যত ফুটেছে ফুল
সব ফুল আজ অকাতরে দিচ্ছে ছড়িয়ে ঘ্রাণ রবীন্দ্রনাথের!

শুধু আজ নয়, সারামাস, সারাটি বছর
আমাদের সংকটে, শংকা আর আনন্দ আয়োজনে
দেখি বিশাল বটবৃক্ষের মতো আছেন দাঁড়িয়ে

রবীন্দ্রনাথ!

খুঁজি


খুঁজি, গাছের শাখায় শাখায়, নদীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে
রোদের রুপালী ডানায় কিছু আমি খুঁজি
খুঁজি মৎস্যের চলাচল, পাখিদের উড়ে যাওয়া
সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁদের গানে কিছু আমি খুঁজি।
খুঁজি গোধূলীর আকাশের লাল, ডিমের কুসুমের
মতো জেগে উঠা সূর্য দেখে খুঁজি।

কখনও বা কিছু নেই, শুধু অন্ধকার গাঢ়
ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ,বৃষ্টির ফোঁটা দেখে খুঁজি ।

আমার খোঁজার কোনো শেষ নেই, রাতদিন আমি খুঁজি
ছোট ঘাসফুল কিভাবে ফোটে, কিভাবে বেড়ে উঠে
কচি লতাপাতা, খুঁজি শিশুর শুকণো মুখে

শাপলা ফুলের মতো জেগে উঠা হাসি!


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান