শাহানারা ঝরনা এর কবিতাগুচ্ছ
$post->title

কবি : শাহানারা ঝরনা


স্বপ্নমালা

সুর-কোলাহল থেমে গেলেই বোধের ঘরে জ্বলবে আগুন
এখন আমি স্বপ্ন পোড়াই মন বনে গায় বিষাদ ফাগুন

পাতার ঘরে শূন্য বসত,পাতারা কী কাঁদতে জানে!
স্বচ্ছ হৃদয় দত্তক চাই নামবো জলে প্রেমের টানে

ও কারিগর!  নতুন করে প্রাত্যহিকীর মঞ্চ সাজা
ভয়ভাঙা দিন ডাকছে কাছে একদিন ঠিক হবোই রাজা

সাগর বেলায় আপন মনে গাইছে কে ঐ অচীন পাখি
অশোক পলাশ শিমুল পোড়ে,এই আমিযে আশায় থাকি

নিত্য কতো ভ্রমণ প্রহর বাজেয়াপ্ত হচ্ছে  দুখে
বাক্যদানের আবেশ তবু বাজছেরে কার দগ্ধ বুকে!

চাইছিযে হায় সাগর প্রেম সূর্যটা হোক জ্ঞান-উপাসক
আরাধনার মুক্তো-ঝিনুক জ্বেলেই দেবে মঙ্গলালোক

সভ্যতা নয় পুরুত ঠাকুর,অনাস্থাতেই ঘুরবে পথে
স্বর্ণালি রোদ গায়ে মেখে উড়বো এবার মায়ার রথে

কাল মহাকাল নাইবা গাঁথুক আস্থা সুতোয় স্বপ্নমালা
বিশ্বাসেতেই অমৃত হয়,  স্বপ্ন-বিষের পূর্ণ থালা!!


বুকের ভেতর বৃক্ষছায়া


নষ্ট হলো স্বপ্নগুলো পুড়লো মোমের মন
উন্মাদনায় থমকে গেল বিদগ্ধ যৌবন .
ক্ষুব্ধ বিকেল অস্তাচলে রাখলো পায়ের ছাপ
উৎসবে নয় .উপহারেই বাড়লো মনস্তাপ ..!

চাঁদের আলোয় বৈষ্ণবী গায় দোহার ধরে ধূণ
পায়ের নিচে ঘাসফুলেরা আচমকা হয় খুন
চক্ষু বুঁজেও সবি দেখি , দেখি শ্মশান ঘাট
কিশোর রাতেই শেষ হয়ে যায় সম্মোহনের পাঠ .!

ঘূর্ণায়মান দোলায় দোলে সমান্তরাল পথ
ভগ্নাংশের অণুকণায় চলবে ভবিষ্যৎ
স্বচ্ছ কাঁচের আয়না দিয়েও যায় না দেখা মুখ
সংঘর্ষের বেদী সাজায় ভন্ড ও হিংসুক ...!!

বুকের ভেতর বৃক্ষছায়া ঠাকুর ঘুমোয় চুপ..
বাসি ফুলের গন্ধে পোড়ে নৈবদ্যের ধুপ
বুনোঝড়ে পাখি মরে কেউ করে না শোক
বোধের ঘরে জ্বালবে কে আজ কল্যাণের আলোক !!


মন ভেজেনা 


জটিল জীবন মেঘ বসতি মেঘের আশায় থাকব কতো
ও পোড়ামেঘ,তুই কেন বল কাঁদিস রে তোর ইচ্ছেমতো

মন দেয়ালে বোধের ফাটল অনুপূরক নেই কিছু আর
অভিযোজন ইচ্ছে নিয়েই করছি সময় এপার ওপার

মন্বন্তরের কালো ধোঁয়া উড়ছে উড়ুক কার কি তাতে !
সকাল বিকেল দেবারতি, দেবতা থাকে দুধেভাতে

বাগ্মিতা আজ বিশ্বজুড়ে সঠিক কাজে শুধুই ফাঁকি
তত্ববাদীর সত্য ভাষণ শুনেও সবাই চুপটি থাকি

পুঁজিপতির ধ্যানধারনায় লীলাবতী ভোগের দাসী
দুঃস্বপ্নের রিমোট হাতেই ঘাটান্তরে যায় যে মাসী

মন-মননে সমঝোতার বাক-বিনিময় দ্বন্দ্ব চলে
পড়শি সুজন নানান ছলে মান ভাঙানোর গল্প বলে

স্বপ্ন কেনার মূলধন নেই বায়না তবু আকাশছোঁয়া
কোনটা রেখে কোনটা কে চাই শেষে সবই যায়যে খোয়া

সুন্নি আবেশ নিয়েই চলে উচ্চকিত মুনাফিকী
সুদ আসলের হিসেব করেও পয়েন্ট জিতি পয়সা সিকি

ব্যালেন্সবিহীন জীবন পথে চলছি যারা পথিক সেজে
একদিন সব থামবে যখন বিদায় বাঁশি উঠবে বেজে

তৃষ্ণাকাতর সময় পোড়ে মন ভেজেনা সৃষ্টিজলে
ও সোনা মেঘ ! শান্তিধারা দে ঢেলে দে হৃদমহলে !!

চির অমর ভালবাসা


রঙিন চোখে যেদিক তাকাই নিসর্গতায় ভরা
স্বপ্নপরি আঁচল ওড়ায় যায় না তাকে ধরা
চঞ্চলতার আবেশ নিয়ে জোছনা জলে ভাসি
প্রেমের রাখাল কুঞ্জবনে বাজায় মোহন বাঁশি ।

মনের পালে দোলা লাগে ভাটির সুরের গানে
বাউল হয়ে কোথায় হারাই ভালবাসার টায়া?
জুঁই চামেলি চম্পা বেলি অঙ্গনেতে ফোটে
আমার আমি মুক্তো খোঁজে,কোন সুদূরে ছোটে !

প্রজাপতির ডানায় লিখি ইচ্ছে রঙের চিঠি
চন্দ্র তারা মিষ্টি হেসে তাকায় মিটি মিটি
রহস্যময় সকল কিছু প্রণয় মোহে ঘেরা
এসব নিয়েই হয় নিয়ত নিজ বলয়ে ফেরা !

তোমার প্রেমের রূমাল আসে পাগলামিতে ভেসে
আকুল প্রাণের শঙ্খধনি সুরের সুধায় মেশে
মিলন বীণার ইথার জুড়ে দস্যিপনার ছোঁয়া
অনুভব ও স্বপ্নগুলো যায় না তো তাই খোয়া।

বিনি সুতোর মালা গাঁথি মন মানুষের নামে
দেই পাঠিয়ে অপ্সরা সুখ ভালবাসার খামে
পুষ্পিত সব আশা নিয়েই মেঘের ডানায় উড়ি
ভালবাসা চির অমর নেই কোন তার জুড়ি ।

রঙিন চোখে যেদিক তাকাই নিসর্গতায় ভরা
স্বপ্নপরি আঁচল ওড়ায় যায় না তাকে ধরা
চঞ্চলতার আবেশ নিয়ে জোছনা জলে ভাসি
প্রেমের রাখাল কুঞ্জবনে বাজায় মোহন বাঁশি ।

মনের পালে দোলা লাগে ভাটির সুরের গানে
বাউল হয়ে কোথায় হারাই ভালবাসার টায়া?
জুঁই চামেলি চম্পা বেলি অঙ্গনেতে ফোটে
আমার আমি মুক্তো খোঁজে,কোন সুদূরে ছোটে !

প্রজাপতির ডানায় লিখি ইচ্ছে রঙের চিঠি
চন্দ্র তারা মিষ্টি হেসে তাকায় মিটি মিটি
রহস্যময় সকল কিছু প্রণয় মোহে ঘেরা
এসব নিয়েই হয় নিয়ত নিজ বলয়ে ফেরা !

তোমার প্রেমের রূমাল আসে পাগলামিতে ভেসে
আকুল প্রাণের শঙ্খধনি সুরের সুধায় মেশে
মিলন বীণার ইথার জুড়ে দস্যিপনার ছোঁয়া
অনুভব ও স্বপ্নগুলো যায় না তো তাই খোয়া।

বিনি সুতোর মালা গাঁথি মন মানুষের নামে
দেই পাঠিয়ে অপ্সরা সুখ ভালবাসার খামে
পুষ্পিত সব আশা নিয়েই মেঘের ডানায় উড়ি
ভালবাসা চির অমর নেই কোন তার জুড়ি ।

সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান